বাংলায় শুরু ডিটেনশন ক্যাম্প

সংগৃহীত ছবি
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বারবার দিল্লির সরকার সুর চড়িয়েছে বাংলার পূর্বতন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। তবে ক্ষমতায় এসে কাঁটাতারের বেড়া আর অনুপ্রবেশকারী ধরতে তৎপর হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও। ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেই বাংলার বা দেশের নাগরিক নন সাধারণ মানুষ, একথাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তাহলে যাদের নাম ভোটার তালিকায় নেই তাদের কী হবে? এবার পশ্চিমবঙ্গের সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জেলাশাসকদের ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির জন্য নির্দেশ দিয়ে দিয়েছে। তবে এবার এই ধরনের ক্যাম্পের নাম দেওয়া হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার। সাধারণ মানুষের এই হয়রানিতে সরব তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন করে প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে যারা ভোটের আগে প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত অ্যাপালেট ট্রাইবুনালে আবেদন করেছিলেন, তাদের ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার তালিকায় আবার ফিরে পেয়েছেন নিজেদের জায়গা। তবে বাকি অংশের মানুষের ভবিষ্যৎ এখনও রয়েছে ঝুলে।
তারই মধ্যে এবার পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারী ধরতে তৎপর বিজেপির সরকার। ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেই ভারতীয় নয় বলে সেই নাগরিকরা চিহ্নিত হবে, জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই মতো রাজ্যের পার্বত্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। রাজ্যের সব জেলা শাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করেন তারা। কীভাবে সেই হোল্ডিং সেন্টার তৈরি হবে, তা নিয়ে আট পাতার আলাদা নির্দেশিকাও পাঠানো হয়েছে জেলা শাসকদের। এই কাজে জেলা পুলিশ সুপার থেকে রাজ্যে ডিজিপি পর্যন্ত পদাধিকারীদের জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এর আগে দীর্ধদিন ধরে ডিটেনশন ক্যাম্প রয়েছে ভারতের আসামে। সেখানে একাধিক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষকে ধরে রাখা রয়েছে। আবার এই ডিটেনশন ক্যাম্প থেকেই মুক্তি পেয়ে পশ্চিমবঙ্গের নিজের বাড়িতে ফিরে গিয়েছেন এক যুবক, এমন নজিরও রয়েছে। বাংলার ক্ষেত্রে কী হবে, এখন সেটাই প্রশ্ন রাজ্যের মানুষের।
যে সব মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে তারা এই হোল্ডিং সেন্টারের নির্দেশিকার পরে চিন্তায় পড়েছেন। যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের একটা বড় অংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের মহিলা ও মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। এই নির্দেশিকায় এই শ্রেণির মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
তবে এভাবে জেলখানার পরিবেশ তৈরি করে বিজেপির দিল্লির ক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হবে বলে দাবি করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
‘কত জেল বানাবে বানাও। আমরা দেখতে চাই গোটা দেশে কত জেল রয়েছে। বাংলায় আপনারা যত অত্যাচার করবেন তত লোকসান দিল্লিতে হবে। এখন আমরা বাংলা থেকে মুক্ত হয়ে গিয়েছি। জোর করে আপনারা আমাদের ভোট চুরি করে নিয়েছেন। আপনারা সব সময়ই মহিলা, যুব, সংখ্যালঘু বিরোধী।’






