দিল্লির আগুন
শেষ বয়সে বাবার দেখভাল করতে এসে নিশ্চিহ্ন পুরো পরিবার

মারা গেছেন চিকিৎসাধীন ৮০ বছর বয়সী রাধে শ্যাম আগারওয়ালও
এক সপ্তাহের ব্যবধানে একে একে নিভে গেল আগারওয়াল পরিবারের সব আলো। দিল্লির ভয়াবহ হোটেল অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের আট সদস্যকে হারানোর পর এবার মারা গেলেন পরিবারের শেষ জীবিত সদস্য, ৮০ বছর বয়সী রাধে শ্যাম আগারওয়ালও। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত জানতেই পারেননি, যাদের জন্য বারবার খোঁজ করছিলেন—তাদের কেউ আর বেঁচে নেই। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পুরো পরিবারে আর কোনো জীবিত সদস্য রইল না।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, নিজের পরিবারের ওপর নেমে আসা এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের কিছুই জানতেন না রাধে শ্যাম আগারওয়াল। তিনি সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাকে কাছ থেকে দেখভাল করার সুবিধার জন্যই পরিবারের সদস্যরা কাছের ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ হোটেল ফ্লোরিশ ইনে উঠেছিলেন। সেই হোটেলেই আগুনে পুড়ে একে একে প্রাণ হারান তার প্রিয়জনরা।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে তিনি বারবার পরিবারের সদস্যদের খোঁজ করছিলেন। জানতে চাইছিলেন, কেন কেউ আসছে না। অথচ হাসপাতাল থেকে মাত্র কয়েকশ মিটার দূরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সেই ট্রাজেডির কথা জানানো হয়নি তাকে।
রাধে শ্যামের ছেলে বিবেক আগারওয়াল, স্ত্রী প্রেমলতা আগারওয়াল, পুত্রবধূ তরজানি আগারওয়াল, নাতনি জিভিশা ও ভারিয়া এবং আরও তিন আত্মীয় ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন। যানজট ও বাড়ি থেকে হাসপাতালের দূরত্বের কারণে পরিবারটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কাছেই থাকলে রাধে শ্যামের প্রয়োজনগুলো সহজে দেখাশোনা করা যাবে।
চিকিৎসকরা আগেই পরিবারকে জানিয়েছিলেন, রাধে শ্যামের শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল তাদের। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় তিনি নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে ভর্তি ছিলেন বলে জানিয়েছেন দূর-সম্পর্কের আত্মীয়রা।
দুর্ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টায় পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। ওই সময়টাতেই সাধারণত সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হতো হাসপাতালে।
বিবেক আগারওয়ালের বড় মেয়ে জিভিশা, যিনি বেঙ্গালুরুর একটি প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রী ছিলেন, শুধু দাদার সঙ্গে শেষবার দেখা করতেই দিল্লিতে উড়ে এসেছিলেন।
আত্মীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নাতনিকে দেখে খুব আনন্দিত হয়েছিলেন রাধে শ্যাম। হাসপাতালের নার্সদের গর্ব করে বলেছিলেন, তার নাতনি এত দূর থেকে শুধু তাকে দেখতে এসেছে। কিন্তু যেটিকে পরিবারের সদস্যরা দাদার কাছ থেকে নাতনির বিদায় ভেবেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়ে গেল পরিবারের সবার কাছ থেকে চিরবিদায়।
রাধে শ্যামের মৃত্যুর পর গুরুগ্রামের সেক্টর ৪৬–এ অবস্থিত আগারওয়াল পরিবারের বাড়িটিও এখন পুরোপুরি জনশূন্য। যে বাড়ি একসময় হাসি, গল্প আর পারিবারিক উষ্ণতায় ভরা ছিল, সেখানে এখন শুধু নীরবতা।




