শিখছেন রান্না, ছুটির দিনে ঘরকুনো এক অন্য এমবাপ্পে

সংগৃহীত ছবি
কিলিয়ান এমবাপ্পে মানেই গতি, দক্ষতা আর প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে কাঁপুনি ধরানো এক নাম। তবে মাঠের সেই চেনা আগ্রাসনের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি কতটা নিভৃতচারী এবং প্রচারবিমুখ, তা সচরাচর সামনে আসে না। ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে যখন আর মাত্র কয়েক দিন বাকি, তখন ফ্রান্স দলের এই নতুন অধিনায়ক অবলীলায় জানালেন তার জীবনের দর্শন, মাদ্রিদের নতুন অভিজ্ঞতা এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে বন্ধুত্বের গল্প। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে বিশ্বমঞ্চে নিজের দলকে আবারও চূড়ায় নিয়ে যাওয়ার তাড়না।
বিখ্যাত সাময়িকী ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ফরাসি এই তারকা ফুটবলার মাঠ ও মাঠের বাইরের জীবন নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন।
সবার ধারণা ফুটবল তারকাদের জীবন মানেই সবসময় রোমাঞ্চ আর ব্যস্ততায় ঠাসা। কিন্তু এমবাপ্পে জানালেন, ছুটির দিনে সাধারণ মানুষের মতোই অলস সময় কাটাতে ভালোবাসেন তিনি, 'মাঝেমধ্যে ছুটির দিনে আমার ঘরে বসে স্রেফ অলস সময় কাটাতে ভালো লাগে। সবাই ভাবে আমাদের জীবন সবসময় খুব উত্তেজনাপূর্ণ, আমরা কত কী করি! কিন্তু সাধারণ মানুষের মতোই আমাদেরও কখনো কখনো স্রেফ রিল্যাক্স করতে ইচ্ছে করে, কিচ্ছু করতে ইচ্ছে করে না।'
এমনকি রান্না শেখার চেষ্টা করছেন জানিয়ে এমবাপ্পে বলেন, 'আমি রান্না শিখতে শুরু করেছি... তবে সত্যি বলতে এখন পর্যন্ত তেমন কিছুই পারি না। তবে চেষ্টা করছি। নিজের জন্য বা প্রিয় কারও জন্য ঘরে ভালো কিছু রান্না করতে পারাটা দারুণ ব্যাপার।'
ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে যদি ১৬ বছর বয়সী নিজের সেই কিশোর রূপের মুখোমুখি হতেন, তবে কী পরামর্শ দিতেন? এমবাপ্পের সরল জবাব, 'আমি তাকে বলতাম, বড় স্বপ্ন দেখ, বিনয়ী থাক এবং পুরো প্রক্রিয়ার ওপর বিশ্বাস রাখ। কারণ, একজন অ্যাথলেট হওয়ার পথটা অনেক দীর্ঘ। ১৬ বছর বয়সে আমি শুধু ফুটবলার হতে চেয়েছিলাম, বড় ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলাম এবং মাঠে নিজের আনন্দ ধরে রাখতে চেয়েছিলাম।'
মাঠের বাইরে মানসিক ভারসাম্য ধরে রাখতে ফুটবল জগতের বাইরের বন্ধুদের গুরুত্ব তার কাছে অনেক বেশি। নিজের এক বন্ধুর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, 'আমার এমন বন্ধু আছে যে ফুটবল একদমই পছন্দ করে না। আমরা যখনই ফুটবল নিয়ে কথা বলতে যাই, সে বিরক্ত হয়ে বলে "তোমার জীবনে ফুটবল ছাড়া আর কিছু নেই?" কিন্তু ওরাই আমার আসল বন্ধু, যারা আমাকে মাটির কাছাকাছি রাখে।'
পিএসজি ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর স্পেনের সংস্কৃতি ও মানুষের উষ্ণতা এমবাপ্পেকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে স্প্যানিশদের চাপমুক্ত থাকার জীবনবোধ তিনি বেশ উপভোগ করছেন। রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে তার বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, 'সে এখন আমার বন্ধু। ছোটবেলায় যাদের আপনি আদর্শ মানতেন, তারা যখন আপনার বন্ধু হয়ে যায়, সেটা দারুণ এক অনুভূতি। আমাদের নিয়মিত কথা হয়। আমি যখন মাদ্রিদে প্রথম এলাম, ও আমাকে অনেক সাহায্য করেছে কারণ ও এই শহরটাকে খুব ভালো করে চেনে।'
ফ্রান্স জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে এবারই প্রথম বিশ্বকাপ মঞ্চে নামছেন এমবাপ্পে। স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্বটা এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে ফরাসি অধিনায়ক বলেন, 'এখন আমি দলের অধিনায়ক। দায়িত্বটা এখন অন্য রকম, তবে আমি এর জন্য পুরোপুরি তৈরি। আমি আবারও বড় মঞ্চে আমার দলকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত এবং আশা করি আমরা ট্রফিটা নিয়ে প্যারিসের চ্যাম্পস-ইলিসিতে ফিরতে পারব।'
নিজের ফুটবলীয় লেগেসি নিয়ে ম্যাচ চলাকালীন একদম ভাবেন না জানিয়ে এমবাপ্পে বলেন, 'খেলার সময় লেগেসি নিয়ে ভাবার সুযোগ নেই, তখন মাথায় থাকে শুধু ট্রফিটা দেশে ফিরিয়ে আনার চিন্তা। তবে হ্যাঁ, আমরা যদি জিততে পারি, তবে তা দেশের ইতিহাসে এবং আমার নিজের ক্যারিয়ারের জন্য এক অবিশ্বাস্য অধ্যায় হয়ে থাকবে।'







