মেক্সিকো এবারও সমর্থন দেবে ব্রাজিলকে

রিভেলিনো
১৯৭০ সালে পেলের ব্রাজিল মেক্সিকোর মাটিতেই ইতালিকে হারিয়ে জিতেছিল তৃতীয় বিশ্বকাপ, সেই থেকে আত্মার বন্ধন হয়েছে আরও সুদৃঢ়। সেই দলে থাকা রিভেলিনো ৫৬ বছর পর আবারও পা রাখবেন অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে, যেখানে জুলেরিমে ট্রফিটা নিজেদের করে নিয়েছিল ব্রাজিল। এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বিশেষভাবে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে আছেন ’৭০-এর বিশ্বকাপে ৩ গোল করা রিভেলিনো। ফিফার ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তার আশা এবারও মেক্সিকানরা আপন করে নেবেন ব্রাজিলকে।
স্মৃতিকাতর হয়ে রিভেলিনো জানিয়েছেন মেক্সিকোয় কাটানো সেই দিনগুলো নিয়ে মুগ্ধতার কথা, ‘মেক্সিকোতে ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপটা আমাদের জন্য ছিল এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। ফাইনালের আগপর্যন্ত আমরা গুয়াদালাহারায় ক্যাম্প করেছিলাম। একের পর এক ম্যাচ জিতে চলেছি, আর একই শহরে দিনের পর দিন আমাদের অবস্থান দীর্ঘায়িত হচ্ছে— ব্যাপারটাই টুর্নামেন্টটিকে একদম অন্যরকম একটি মাত্রা দিয়েছিল। এরপর যখন ফাইনাল খেলতে নামলাম, আমাদের সামনে তখন উপচেপড়া গ্যালারির অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম। চোখের সামনে দিগন্তবিস্তৃত সেই বিশাল জনসমুদ্র— অসাধারণ এক অনুভূতি।’
ব্রাজিলের এই সাবেক মিডফিল্ডার আরও জানিয়েছেন, কীভাবে স্বাগতিকরাও হয়ে গিয়েছিল ব্রাজিল ভক্ত, ‘মেক্সিকো যখন বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল, ওখানকার ফুটবলপ্রেমীরা বুক দিয়ে আগলে নিলেন ব্রাজিল দলকে। এর পেছনে কারণ ছিল আমাদের খেলার চোখধাঁধানো শৈলী, ফুটবলের সেই চিরন্তন জাদু আর মাঠের নান্দনিকতা। ওখানকার সমর্থকরা আমাদের একদম মনের মণিকোঠায় জায়গা দিয়েছিলেন; তাদের সেই সমর্থনটা ছিল নিখাদ, একদম হৃদয় নিংড়ানো। আর ঠিক এ কারণেই পুরো আবহটা রূপ নিয়েছিল এক অবিশ্বাস্য মহাকাব্যে।’
বিশ্বকাপে সবচেয়ে কঠিন ম্যাচটা নিঃসন্দেহে ফাইনাল। স্নায়ুর চাপ আর প্রত্যাশার দাবি, সবটুকু নিংড়ে নেয় একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে। রিভেলিনো যা বললেন, সেটা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো, তাদের কাছে নাকি ইতালির বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচটিই ছিল বিশ্বকাপের সহজতম ম্যাচ, “শুনলে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, তবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধীরস্থির আর সহজ ম্যাচটি আমরা খেলেছিলাম ইতালির বিপক্ষে— ফাইনালে! খটকা লাগাই স্বাভাবিক, ‘ফাইনালে আবার সহজ ম্যাচ হয় নাকি?’ কিন্তু মাঠে আমার মনে হচ্ছিল, সেদিন পাঁচ গোল দেওয়াও অসম্ভব কিছু ছিল না। একটা সময় তো আমি প্রায় গোল করেই ফেলেছিলাম, শেষ মুহূর্তে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার টেনেহিঁচড়ে ফেলেই দিল আমাকে। তবে ততক্ষণে আমরা ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে, তাই হয়তো রেফারিও আর পেনাল্টি দিতে চাইলেন না।”




