অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর এখনই সময়

প্রথম দেখা শারজায় ১৯৯০ সালে, অস্ট্রেলেশিয়া কাপের ম্যাচে। শেষ দেখা ২০২৩ সালে, পুনেতে বিশ্বকাপের ম্যাচে। ক্রিকেট দুনিয়ার সফলতম দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে ২২টি, এর ভেতর ২০ বারই হার। একবার বৃষ্টিতে পণ্ড হয়েছে ম্যাচ। মাত্র একবার জিতেছে বাংলাদেশ, তবে ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই জয় হয়ে আছে বাংলাদেশের ক্রিকেট রূপকথার অংশ।
এরপর গত ২১ বছরে পৃথিবীর বুকে অভ্যুদয় হয়েছে তিনটি স্বাধীন দেশের, তখন পৃথিবীতে আইফোন বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব ছিল না, আর এখন তারই ১৭তম সংস্করণ চলছে। তবুও বাংলাদেশ ওয়ানডেতে আর হারাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়াকে। এবার বাংলাদেশ সফরে অস্ট্রেলিয়া এসেছে খুব সম্ভবত তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল ওয়ানডে দল নিয়ে। অন্যদিকে ঘরের মাঠে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশও আছে দারুণ ছন্দে। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দেওয়ার তো এখনই সময়।
ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের রমরমা বাজারে ক্রমেই গুরুত্ব হারাচ্ছে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে তাও আইসিসির প্রণয়ন করা ওয়ানডে সুপার লিগের কারণে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের কিছু গুরুত্ব ছিল। কিন্তু বড় দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ডের অনীহা, ঠাসবুনন সূচি, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের কারণে জাতীয় দলে সেরা ক্রিকেটারদের না পাওয়াসহ বেশ কিছু কারণে এক আসরের পরই বাতিল হয়ে যায় সুপার লিগ, যার মাধ্যমে নির্ধারণ হয়েছিল ২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করা আট দল। বড় দলগুলো চড়ে বসে আছে র্যাংকিং টেবিলের মগডালে, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে তাদের নেই কোনো দুশ্চিন্তা। তবে তলানির দিকে থাকা দল যেমন বাংলাদেশের জন্য দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোই হচ্ছে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট। ভালো করলে বাড়বে র্যাংকিং, এড়ানো যাবে বাছাই পর্ব।
কিছুদিন আগেই শেষ হয়ে যাওয়া ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ১৯তম মৌসুমে খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার ১৬ জন ক্রিকেটার। প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউড, মিচেল মার্শ, ট্রাভিস হেডদের মতো শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটাররা খেলবেন না বাংলাদেশ সিরিজে। আইপিএলের পর তাদের বিশ্রাম দেবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া, কারণ সামনেই তাদের ব্যস্ত টেস্ট সূচি। জশ ইংলিসের নেতৃত্বে আসা হাভিয়ের বার্টলেট, কুপার কনোলি, ম্যাট রেনশদের নিয়ে গড়া দলটি অভিজ্ঞতা আর শক্তিমত্তায় নিঃসন্দেহে অনেক পিছিয়ে। নিজেদের সামর্থ্যের সেরাটা দিতে পারলেই এই দলটাকে হারিয়ে দেওয়া খুবই সম্ভব মেহেদী হাসান মিরাজদের জন্য। বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়কও মনে করেন, এখনই উপযুক্ত সময়, ‘আমাদের সবাই ফর্মে আছে এবং খুব ভালো ছন্দে আছে। যেহেতু এটি (মিরপুর) আমাদের হোম গ্রাউন্ড এবং অনেক বছর পর তাদের সঙ্গে খেলছি, আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব এই সুযোগটি কাজে লাগাতে।’ শেষ সময়ে মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেডকে দলে না পেয়ে শক্তি হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, মিরাজ ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বললেন প্রতিপক্ষের চেয়ে নিজেদের নিয়েই বেশি ভাবছেন তিনি, ‘আমরা আগেই শুনেছিলাম যে তারা আসছে না, তবে গতকাল নিশ্চিত হয়েছি। তারা না থাকলেও অস্ট্রেলিয়া অনেক শক্তিশালী দল নিয়ে এসেছে। আমরা প্রতিপক্ষকে নিয়ে বেশি চিন্তা না করে নিজেদের ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করার চেষ্টা করব। আমাদের একটাই পরিকল্পনা—ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে এবং ম্যাচ জিততে হবে।’
নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে স্পোর্টিং উইকেটে খেলেই জিতেছে বাংলাদেশ। অনেকটাই অনভিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিরপুরে ঘূর্ণি ফাঁদ পেতে সহজ জয়ের রাস্তায় হাঁটতেই পারতেন নীতিনির্ধারকরা। তবে গত কয়েকটি সিরিজে পাওয়া সাফল্য আত্মবিশ্বাসী করেছে মিরাজকে, ‘মানুষের মধ্যে একটি ধারণা আছে যে, মিরপুর মানেই ঘূর্ণি বা বাজে উইকেট, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। আমরা গত কয়েক সিরিজে দেখেছি, এখানেও ভালো উইকেট হতে পারে। সামনে বড় টুর্নামেন্ট আছে, তাই ভালো উইকেটে খেলে জিততে পারলে বোলার ও ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে, যা দলের জন্য সহায়ক হবে।’
অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ইংলিস অবশ্য দলটিকে দুর্বল মানতে নারাজ। ম্যাচের আগের দিনের সংবাদ সম্মেলনে জোর গলাতেই বললেন, ‘(দলটি দুর্বল কি না?) সিরিজটি শেষ হওয়ার পরই আসলে আসল উত্তরটি জানা যাবে। যেকোনো দল থেকেই মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেডের অনুপস্থিতি একটা বড় ধাক্কা। এটা সত্যি যে, আমাদের দল থেকে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ও বড় তারকা ক্রিকেটার এই সফরে নেই। তবে আমি মনে করি, গত কয়েক বছর ধরে যারা নিয়মিত খেলছে— যেমন নাথান এলিস, জেভিয়ার বার্টলেট কিংবা বেন ডোয়ারশুইস— আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন তাদের বেশ ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দারুণ রোমাঞ্চকর এবং প্রতিভাবান ক্রিকেটার। এই সিরিজে তারা নিজেদের কতটা মেলে ধরতে পারে, তা দেখার জন্য আমি মুখিয়ে আছি।’
১
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২২ ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশের জয় একটিই। ২০০৫ সালে কার্ডিফে মোহাম্মদ আশরাফুলের সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ।
১৫
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ উইকেট মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার। বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৮ উইকেট নেওয়া অস্ট্রেলিয়ান ব্রেড হগ।
২৮৯
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ২৮৯ রান করেছেন হাবিবুল বাশার। তিনি এখন প্রধান নির্বাচক। ১২ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৪৪৪ রান অ্যাডাম গিলক্রিস্টের।




