জুলাই-জুন নয়, অর্থবছর জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাব জামায়াতের

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। সংগৃহীত ছবি
অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ‘জনমুখী বাজেট ২০২৬-২৭ প্রস্তাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি। রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জামায়াত।
অনুষ্ঠানে শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের অর্থবছর হচ্ছে জুলাই টু জুন। জুন মাসে বর্ষা, খরা, দুর্যোগ, সাইক্লোন- এগুলাতে আক্রান্ত থাকে দেশ। আমরা লক্ষ্য করি, এডিপির একটা বিশাল অংশ শেষের দুই মাসে বাস্তবায়নের জন্য তাড়াহুড়া করা হয়। এ সময় গণলুটপাট হয়। এর সুফল পায় না জনগণ। সুফল চলে যায় কিছু অসৎ সুবিধাভোগীর পকেটে।’
তার ভাষ্য, ‘আমরা সংসদে প্রস্তাব দেব, আমাদের ফিসকাল ইয়ারটি ক্যালেন্ডার ইয়ারের সাথে মিলিয়ে করার। তাহলে বর্ষার পানিতে আমাদের টাকাগুলো ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে না। এই টাকাগুলোর খবর পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।’
বাজেট বাস্তবায়নে সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘যদি এগুলো না থাকে, তাহলে যে বাজেটই সরকার দিক, ওই বাজেট কার্যকর হবে না।’
‘সম্পূরক বাজেট বছর শেষ হওয়ার ন্যুনতম তিন মাস আগে সংসদে পেশ করতে হবে। কিন্তু সম্পূরক বাজেট পাওয়া যায় শেষ মাসে। এর মাঝে বৈধ, অবৈধ, ন্যায্য, অন্যায্য সব খরচ হয়ে যায়। কালো-সাদা একাকার হয়ে যায়। তারপরে সম্পূরক বাজেট সংসদের সামনে আসলে জনগণের লাভ হয় না’, যোগ করেন তিনি।
দেশের কর আদায়ের পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেছেন, ‘জনগণ তিনটা কর দেয়। একটা ট্রেজারিতে জমা হয়; একটা যায় কিছু ব্যক্তির পকেটে, যারা কর আদায় করেন; আরেকটা যায় চাঁদাবাজদের পকেটে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ, যার কারণে ট্রেজারির ট্যাক্সটা তার টার্নওভার ভলিউমের দিক থেকে ছোট হয়ে আসে। এখানে যদি সততা এবং স্বচ্ছতা মেনটেইন করা যায়, অটোমেটিক্যালি ব্যবসায়ীরা বিপুল উৎসাহ নিয়ে আরো বেশি ট্যাক্স দেবেন।’
জামায়াত আমির আরও বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের অপমানজনক বিদায়ের পর জনঅভিপ্রায়ের ভিত্তিতে একটি সরকার গঠিত হয়েছিল। তারাও জাতির সঙ্গে ইনসাফ করতে পারেননি। বিভিন্ন কথা এখন অনেকে স্বীকারোক্তি দিচ্ছেন, তবে সে সময় যারা সরকারে ছিলেন, অনেকে চুপ করে আছেন। তারা যদি ইনসাফ করতেন আজকের বাংলাদেশের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। নির্বাচনে জনগণ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দিয়েছে। ভোট সুষ্ঠু হয়েছে, তবে ফলাফল সুষ্ঠু হয়নি। ইতিমধ্যেই আত্মস্বীকৃত বিভিন্ন সাক্ষীও পাওয়া গেছে।’
অনুষ্ঠানে জামায়াতের বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন দলীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপার সভাপতি তাসমিয়া প্রধান প্রমুখ। জামায়াতের দলীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, নায়েবে আমির মজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রমুখ।




