দুই বছরের প্রকল্প শেষ হয়নি এক যুগেও, তদন্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সংগৃহীত ছবি
২০১৩ সালে একনেকে অনুমোদিত খুলনা শিপইয়ার্ড প্রকল্পের মেয়াদ দফায় দফায় বৃদ্ধি করেও কেন লক্ষ্য অর্জিত হয়নি—তা জানতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন কক্ষে একনেকের সভায় এই নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানিয়েছেন, গত ১২ বছর দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পটির মেয়াদ। কিন্তু লক্ষ্য অর্জন হয়নি। এর জন্য তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
জানা যায়, ২০১৩ সালে অনুমোদন পায় খুলনা শিপইয়ার্ড রোড প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটি। এরপর আতাউর রহমান লিমিটেড ও মাহাবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেডকে যৌথভাবে কার্যাদেশ দেয় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই বছরমেয়াদি প্রকল্পটি ২০১৫ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজই শুরু করতে পারেনি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা।
প্রথম দফায় এক বছর ও দ্বিতীয় দফায় দুই বছর সময় বাড়িয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। সেই লক্ষ্যও পূরণ না হওয়ায় পরে নতুন করে তৃতীয় দফায় এক বছর, চতুর্থবার প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে তিন বছর, পঞ্চম দফায় দুই বছর, ষষ্ঠ ধাপে ছয় মাস ও সপ্তম দফায় ছয় মাস বাড়ানো হয় মেয়াদ। সেই মেয়াদও শেষ হয় ২০২৫ সালের জুনে।
সপ্তম মেয়াদে কাজের ভৌত অগ্রগতি হয় ৭০ শতাংশ। বাকি কাজ শেষ করতে অষ্টম ধাপে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ দুই বছরের প্রকল্পের মেয়াদ গিয়ে ঠেকেছে এক যুগে। মেয়াদের পাশাপাশি প্রকল্পটির ব্যয়ও বেড়েছে দফায় দফায়।
প্রকল্পটি প্রথমবার ২৮ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছিল। দ্বিতীয়বারে বাড়ানো হয়েছে ১৩২ কোটি। এতে ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রকল্পের ব্যয় এসে দাঁড়ায় ২৫৯ কোটি টাকায়। পরে ব্যয় কিছুটা কমিয়ে ২৫৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।




