ধর্ষণ ও নির্যাতন বন্ধে সামাজিক মূল্যবোধের উন্নয়ন জরুরি

সংগৃহীত ছবি
ধর্ষণ ও নির্যাতন বন্ধে আইনগত সুরক্ষার পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধের উন্নয়ন জরুরি বলে জানিয়েছেন আইনবিদ, মানবাধিকারকর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, শুধু আইনের কঠোর প্রয়োগ দিয়ে এটি বন্ধ করা সম্ভব নয়। মূল্যবোধ, শিক্ষাব্যবস্থা এবং পরিবারের সদাচার উন্নত করা ছাড়া এই অপরাধ স্থায়ীভাবে প্রতিরোধ করা যাবে না।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘ধর্ষণ ও নির্যাতন : আইনগত সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেছেন তারা।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমাম আলী বলেছেন, ‘ধর্ষণ, নির্যাতন বা যৌন হয়রানি যেভাবেই সংজ্ঞায়িত করা হোক না কেন, এসবই মূলত আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি। কেবল আইনের কঠোর প্রয়োগ দিয়ে এটি বন্ধ করা সম্ভব নয়।’
সভায় বিচারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মাসুদা রেহানা বেগম। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এখনো সিস্টেমটাকে পুরোপুরি পরিবর্তন করতে পারিনি। জবাবদিহির জায়গায় যেতে পারিনি। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে তদন্ত সঠিকভাবে হতে হবে। বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং অস্বীকারের জায়গায় আমাদের সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে সাক্ষ্য আইনে যুগোপযোগী পরিবর্তন এনে মূল্যবোধের জায়গা সমুন্নত করতে হবে।’
তদন্তের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) লিজা বেগম বলেছেন, ‘আমাদের ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টার খুবই সুরক্ষিত হলেও এর পরিধি সীমিত, যা বাড়ানো প্রয়োজন। তদন্ত প্রক্রিয়ায় বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিলম্বিত মেডিকেল রিপোর্ট। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফরেনসিক ও মেডিকেল রিপোর্টের সক্ষমতা বাড়ানো দরকার।’ একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন তিনি।
অন্যদিকে, ভিক্টিম ও সাক্ষীদের সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে অ্যাডভোকেট কাজী জাহেদ ইকবাল বলেছেন, ‘আমাদের বিচারব্যবস্থায় যিনি ভিক্টিম, তাকেই অপরাধ প্রমাণ করতে হয়। এই প্রেক্ষাপটে যথাযথ প্রমাণ আদালতে আনা জরুরি। পূর্ণাঙ্গ আইন না থাকায় অনেক সময় আদালতকেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তাই ভিক্টিম ও সাক্ষীদের নিরাপত্তার জন্য একটি শক্তিশালী সাক্ষী সুরক্ষা আইন থাকা দরকার।’
ভুক্তভোগীর তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা প্রসঙ্গে কুররাতুল আইন তাহমিনা বলেছেন, ‘ভুক্তভোগীর নিরাপত্তার সমস্যা না থাকলে নাম প্রকাশে অসুবিধা হতো না। কিন্তু সামাজিক বাস্তবতার কারণে ছদ্মনাম ব্যবহার করা জরুরি। তবে শুধু মিডিয়া একা প্রটেকশন দিতে পারবে না। পাশাপাশি মামলা যদি কোনো কারণে ভুল প্রমাণিত হয়, তবে অভিযুক্তের নিরাপত্তার বিষয়টিও ভাবা দরকার।’
মানবাধিকারকর্মী শিরীন পারভীন হক অপরাধীদের মানসিকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘মনোবিজ্ঞানীদের উচিত আসামিদের সাক্ষাৎকার নেওয়া এবং তাদের মানসিকতা যাচাই করা। প্রতিকার গোড়া থেকেই করতে হবে এবং সস্তা জনতুষ্টিমূলক বক্তব্য বন্ধ করতে হবে।’
ড. তাসলিমা ইয়াসমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নারী অধিকার ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




