হাম প্রতিরোধে প্রয়োজন পুষ্টি

এ মুহূর্তে হাম নিয়ে সবচেয়ে দুশ্চিন্তায় শিশুদের মা-বাবারা। হার্ড ইমিউনিটি ভেঙে পড়ার পর যেসব শিশু আক্রান্ত হয়নি, তারাও যেকোনো সময় সংক্রমিত হতে পারে। টিকাস্বল্পতা বা মজুদ কমে যাওয়া— এ অবস্থা সৃষ্টির পেছনের কারণ যা-ই হোক, প্রত্যেক অভিভাবকের উচিত দ্রুত শিশুদের টিকার আওতায় আনা। বর্তমানে আমাদের অনেক রিস্ক ফ্যাক্টর মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এর ভেতরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া দরকার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর।
আতঙ্কিত হবেন না
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে হামে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। হামের লক্ষণগুলো মাথায় রেখে সতর্ক থাকলেই প্রাথমিক ক্ষতি অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।
র্যাশ ওঠা শুরু করলেই শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা করে ফেলতে হবে। তাকে মাঠে বা স্কুলের মতো জনবহুল স্থানে পাঠানো যাবে না। জ্বরের সময় মা-বাবা চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ দেবেন, পরিষ্কার নরম কাপড় ভিজিয়ে শিশুর গা মুছে দেবেন, চোখ উঠলে কুসুম গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে চোখ পরিষ্কার করবেন।
যে লক্ষণগুলো দেখলে শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাবেন—
জ্বর না কমলে
- খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিলে
- অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে
- শ্বাসকষ্ট শুরু হলে
- নিঃশ্বাসের সময় বুক দেবে গেলে
- ঘন ঘন বমি হলে
- পানিশূন্যতা দেখা দিলে
- খিঁচুনি শুরু হলে
প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জরুরি
সেসব শিশু সুস্থ আছে তাদের আলাদা করে ফেলা জরুরি। অভিভাবকদের এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এ সময় শিশুদের নিয়ে গণজমায়েতে যাওয়া যাবে না। শিশুর জ্বর বা ঠান্ডা-কাশি দেখা দিলেই তাকে স্কুলে বা মার্কেটে নিয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বর্তমানে পাঁচ মাস থেকে শুরু করে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা। শিশুর গায়ে র্যাশ ওঠার পর অন্তত পাঁচ দিন তাকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে।
শিশুর জ্বর বা ঠান্ডা-কাশি দেখা দিলেই তাকে স্কুলে বা মার্কেটে নিয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে
নজর দিন পুষ্টিতে
ইমিউনিটির দিকে জোর দেওয়ার বিকল্প নেই। আমরা শিশুর এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিংয়ে জোর দিতে বলি। ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশু কেবলই মায়ের দুধ খাবে। এরপর বুকের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য খাবার দেওয়া জরুরি। ছয় মাসের পর থেকে সুষম খাবারের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। প্রতিদিনের খাবারে টাটকা শাকসবজি ও ফলমূল থাকা খুবই দরকার।
শরীরচর্চা জরুরি
শিশুর রোগপ্রতিরোধে খেলাধুলার বিকল্প নেই। ইদানীং প্রযুক্তির কল্যাণে এবং শহুরে জীবনযাপনের চাপে শিশুদের খেলাধুলার স্থান কমে গেছে, একই সঙ্গে কমেছে কায়িক পরিশ্রমের আগ্রহও। প্রতিদিন খেলাধুলার জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখা ভালো। প্রতিদিন অন্তত ৮ঘণ্টা ঘুমাতে হবে।






