পথ দেখালেন আয়েদুর

অন্ত্রের জটিল রোগের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন এক বাংলাদেশি বিজ্ঞানী, যার সাফল্য এখন বিশ্ব জুড়ে প্রশংসিত। নাম তার ড. আহমেদ আয়েদুর রহমান। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি ডিসিপ্লিনে শিক্ষকতার পরে অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি করে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ডের মেডিকেল স্কুলে যোগ দেন। মানবদেহের অন্ত্রে অবস্থিত জটিল স্নায়ুতন্ত্র, এন্টারিক নার্ভাস সিস্টেম (ইএনএস) নিয়ে কাজ করছেন তিনি। পরিপাকতন্ত্র নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে এটিকে অনেকেই ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’ বলেন। তার গবেষণার একটি প্রধান ক্ষেত্র জন্মগত অন্ত্রের রোগ, বিশেষ করে হার্শপ্রাং রোগ। এতে অন্ত্রের একটি অংশে স্নায়ুকোষ না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। প্রচলিত চিকিৎসায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আক্রান্ত অংশ অপসারণ করা হলেও এটি পূর্ণ সমাধান নয়।
তিনি দেখিয়েছেন, স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অন্ত্রের স্নায়ুতন্ত্র পুনর্গঠন সম্ভব হতে পারে। এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে অস্ত্রোপচারের বিকল্প হিসেবে কার্যকর জৈবিক সমাধান দিতে পারে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত। কোষ প্রতিস্থাপনের পাশাপাশি তিনি অপটোজেনেটিকস ব্যবহার করে অন্ত্রের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের নতুন কৌশল উদ্ভাবন করেছেন। নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষকে নীল আলো দিয়ে উদ্দীপিত করে প্রদাহ কমানোর এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে ওষুধনির্ভর চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে। তার গবেষণা এরই মধ্যে বিশ্ব জুড়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের (এনঅঅইএইচ) অনুদানসহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় তার কাজের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল থেকেও তিনি সম্মানজনক ফেলোশিপ অর্জন করেছেন।






