চেজ ইনফিনিটির সঙ্গে কিছুক্ষণ

চেজ ইনফিনিটি
‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি দুনিয়াজোড়া খ্যাতি পেয়েছেন অভিনেত্রী চেজ ইনফিনিটি। সিনেমাতে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও অভিনীত বব ফার্গুসনের মেয়ে উইলা চরিত্রে মন কেড়েছেন তিনি। এবার ‘হুলু’তে ১০ পর্বের ‘দ্য টেস্টামেন্টস’ ড্রামা সিরিজে অ্যাগনেস ম্যাকেঞ্জি চরিত্রে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল ছিল এর প্রিমিয়ার। চেজ ইনফিনিটির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলেন জনি হক। সময় ছিল মাত্র সাড়ে ৩ মিনিট।
হ্যালো! আপনার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়ে খুব ভালো লাগছে।
আমারও কথা বলতে ভালো লাগছে।
‘দ্য টেস্টামেন্টস’ সিরিজে অ্যাগনেস ম্যাকেঞ্জি যেমন, বাস্তব জীবনে কি আপনি চরিত্রটির মতো নাকি পুরোপুরি আলাদা?
আমার মনে হয়, অ্যাগনেসের সঙ্গে আমার সবচেয়ে বেশি মিল পেয়েছি তার ছোটবেলার দিকগুলোতে, বিশেষ করে তার ব্যক্তিত্ব আর বন্ধুদের প্রতি তার ভালোবাসায়। আমি যখন ১৪-১৫ বছরের ছিলাম, তখন আমিও বন্ধুদের খুব ভালোবাসতাম এবং বিষয়গুলো খুব আবেগ দিয়ে অনুভব করতাম। সেই অনুভূতিগুলো পুরোপুরি আমার নিজের, আর সেখানেই আমার সঙ্গে অ্যাগনেসের মিল আছে। কারণ, আমি চরিত্রটিতে নিজের অভিজ্ঞতাগুলো নিয়ে এসেছি। তবে সত্যি বলতে, অ্যাগনেস যেসব কাজ করে, সেগুলো করার মতো শক্তি হয়তো আমার নেই। কিন্তু হ্যাঁ, আমাদের মিলগুলো মূলত সেখানেই। এ চরিত্রে অভিনয়ের সময় নিজের শৈশব ও কৈশোরের শুরুর সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু নিয়েছি।
চলচ্চিত্রে উইলা বিপদের আভাস পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে নেয়। ‘দ্য টেস্টামেন্টস’ সিরিজেও অ্যাগনেস ম্যাকেঞ্জি চারপাশের হুমকি বুঝতে পেরে প্রতিবাদী হয়। বিশ্ব জুড়ে নারী নিপীড়ন নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। আপনি কি এমন চরিত্রগুলোকে এক ধরনের শিল্পভিত্তিক আন্দোলন হিসেবে দেখেন?
অবশ্যই। এসব চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আমার মধ্যে এক ধরনের দায়িত্ববোধ তৈরি হয়েছে। কারণ, আমরা এখন খুব ভীতিকর এক পৃথিবীতে বসবাস করছি। আমি যেসব কাজের অংশ হতে পারি, সেগুলো যদি নারীদের, বর্ণবাদের শিকার মানুষদের, আমার মতো দেখতে মানুষদের কিংবা যারা আমার মধ্যে নিজেদের কোনো মিল খুঁজে পায়, তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে, তাহলে সেটি হবে আমার জন্য বিরাট সম্মানের বিষয়। আমি যা করি, যদি তার মাধ্যমে কেউ উইলার শক্তি, অ্যাগনেসের দৃঢ়তা তথা তাদের ব্যক্তিত্বের কোনো অংশ থেকে সাহস পায়, তাহলে সত্যিই সম্মানিত বোধ করব। কারণ, আমি শুধু এমন গল্প বলতে চাই, যা মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করবে এবং ভিন্ন ভিন্নভাবে তাদের জীবনযাপনকে ছুঁয়ে যাবে। তাই এ দুই চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আমি গভীর দায়িত্ববোধ অনুভব করেছি।
অ্যাগনেসের মতো চরিত্রের মাধ্যমে কি আপনি সচেতনভাবে নারীদের সমাজ বা রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলতে অনুপ্রাণিত করতে চান?
আমার মনে হয়, অ্যাগনেস কিংবা উইলার মতো চরিত্রে অভিনয় করতে পারা নারীদের নিজেদের কণ্ঠ খুঁজে পেতে অনুপ্রাণিত করতে পারে। তারা যেন প্রচলিত ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করে; যেভাবে ভাবতে শেখানো হয়েছে, সেটাকেও চ্যালেঞ্জ করে। আমার মনে হয়, নিজের কণ্ঠ খুঁজে পাওয়ার এবং নিজের কণ্ঠে শক্তিশালী হয়ে ওঠার জায়গায় আমাদের সমাজে কৌতূহলের অভাব আছে, বিদ্রোহী মানসিকতারও অভাব আছে। বিশেষ করে অ্যাগনেস যেভাবে বিশাল এক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়— যদি সেটি মানুষকে নিজেদের কণ্ঠ খুঁজে পেতে অনুপ্রাণিত করে, তাহলে সেটাই হবে আমার জন্য সবচেয়ে বড় উপহার। মানুষ যদি আমার অভিনয় থেকে এমন কিছু পেয়ে থাকে, তাহলে আমি সত্যিই খুব খুশি হবো।
‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’-এর কাজ করার সময় লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর কাছ থেকে আপনি যা শিখেছেন, সেসব কি এই সিরিজে অভিনয়ে কোনোভাবে সহায়তা করেছে?
লিও আমাকে সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি শিখিয়েছেন, তা হলো— একজন সত্যিকারের নেতা কীভাবে কাজ করেন। সেটে তিনি যেভাবে কোমল নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং শুধু আমাকে নয়, পুরো কাস্ট ও ক্রুকে যেভাবে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন, সেটি আমার কাছে খুব অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল। আমি সেই অভিজ্ঞতা ‘দ্য টেস্টামেন্টস’-এ সঙ্গে নিয়ে এসেছি। আশা করি, পর্দায়ও ঠিক একইভাবে সেটি ফুটে উঠেছে, যেভাবে আমি অনুভব করেছি।
ঘড়ির কাঁটা বলছে, আমার সময় শেষ! বাংলাদেশে আপনার ভক্তদের জন্য কিছু বলুন।
বাংলাদেশের দর্শককে বলতে চাই— আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনারা এত ভালোবাসা দিয়েছেন, সত্যিই সেটি অনুভব করি। আপনাদের কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আপনাদের সবাইকে অনেক ভালোবাসি।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার আরও অনেক সাফল্য কামনা করি। শুভকামনা রইল।
ধন্যবাদ। আপনার সঙ্গে পরিচিত হয়ে খুব ভালো লাগল। ভালো থাকবেন।






