এক দিন পরেই ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার

মাত্র এক কার্যদিবসের ব্যবধানেই বড় ধরনের দরপতন কাটিয়ে আবার শক্তিশালী উত্থানে ফিরেছে দেশের শেয়ারবাজার। মূলত বিমা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক দাপটের কারণেই এই ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বিমা খাতের এই ইতিবাচক হাওয়া পরে অন্য খাতগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (৯ জুন) দুই শেয়ারবাজারেই মূল্যসূচক বৃদ্ধির পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
আজকের এই উত্থানের মধ্য দিয়ে শেষ ১১ কার্যদিবসের মধ্যে ১০ কার্যদিবসেই পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রইল।
এর আগে টানা ৯ কার্যদিবস সূচক বাড়ার পর গতকাল সোমবার (৮ জুন) বাজারে বড় ধরনের ঢালাও দরপতন হয়েছিল। তবে আজ মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতেই বিমা কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বাড়তে থাকে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিমা খাতের দাপট আরও স্পষ্ট হয়, যা ক্রেতাদের সক্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়। দিনশেষে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় শেয়ারবাজারের লেনদেন।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫৫১৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১১১ পয়েন্টে এবং ডিএসই–৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২০৮০ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৭ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৪৬টির, দর কমেছে ১০০টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫১টির।
ডিএসইতে ১৩৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবস থেকে ৩১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১০৭২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৩১৭ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৩৮টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪০টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭০টির এবং ২৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
ডিএসইতে শেয়ার দর পতনের শীর্ষে উঠে বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ার দর আগের দিনের চেয়ে ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমেছে। কোম্পানিটির ৬০ বারে ৮ হাজার ২৬টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ৮ লাখ টাকা। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ার দর আগের দিনের চেয়ে ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ কমেছে। কোম্পানিটির ২৮০ বারে ৪০ হাজার ৪১৬টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ১১ লাখ টাকা।
তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা তুং হাই নিটিংয়ের শেয়ার দর আগের দিনের চেয়ে ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমেছে। কোম্পানিটির ৮৭ বারে ২ লাখ ৯২ হাজার ৮৫৬টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ৮ লাখ টাকা।
তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে- ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস ৬.২৫ শতাংশ, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ৫.৮৮ শতাংশ, ক্যাপিটেক বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান ৪.৬৭ শতাংশ, ক্রাউন সিমেন্ট ৪.৪৪ শতাংশ, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ৩.৯৮ শতাংশ এবং প্রাইম টেক্সটাইল ৩.৭২ শতাংশ দর কমেছে।
এদিকে, দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে পিপলস ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ। কোম্পানিটির ২ হাজার বারে ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ২১৫টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ২০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মার্কেন্টাইল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। কোম্পানিটির ৭৮৬ বারে ১২ লাখ ৭৮ হাজার ১৭১টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের ইউনিট দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। কোম্পানিটির ২ হাজার ১৩৯ বারে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৭৪১টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে– সামিট এলায়েন্স পোর্টের ৮.৬৩ শতাংশ, এশিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ৭.২৮ শতাংশ, সমতা লেদারের ৭.১৬ শতাংশ, তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের ৬.৭৭ শতাংশ, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের ৬.৬৫ শতাংশ, নিটল ইন্স্যুরেন্সের ও সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের ৬.০৬ শতাংশ দর বেড়েছে।




