এক বাড়িতে চার লাশ, কান্নায় ভারী মাদারীপুরের বালিয়া গ্রাম

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মাদারীপুর সদর উপজেলার বালিয়া গ্রামে এখন শুধু কান্না আর আহাজারির শব্দ। এক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর খবরে শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রাম। যে বাড়িতে কিছুদিন আগেও ছিল স্বাভাবিক কোলাহল, সেখানে এখন স্বজন হারানোর বেদনায় ভারী হয়ে আছে পরিবেশ। উঠানে জড়ো হয়েছেন আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
কেউ সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না, কেউ আবার চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না। প্রিয়জনদের শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি হিসেবে বাড়িতে চলছে কবর খোঁড়ার কাজ। একসঙ্গে চারজনের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। আর সেই শোক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বালিয়া গ্রামজুড়ে।
আজ রবিবার দুপুরে সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে আছে। কেউ বিশ্বাসই করতে পারছেন না, একসঙ্গে একই পরিবারের চারজন মানুষ এভাবে চলে গেছেন।
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন মাদারীপুর জেলার মোস্তফাপুর এলাকার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর মোল্লা (৬২), আলমগীর হোসেন মোল্লা (৫৮), খুরশিদা বেগম (৪৫), মাজেদা আক্তার (৪৮) ও অ্যাম্বুলেন্সের চালক কাওছার (২৫)।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর মোল্লা অসুস্থ হয়ে পড়লে আজ রবিবার সকালে তাকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে আলমগীর মোল্লাকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা অ্যাম্বুলেন্সে করে ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হন।
পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শংকরপাশা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বরিশালগামী একটি বিআরটিসি বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সচালকসহ পাঁচজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য ছিলেন।
নিহতের ভাইয়ের ছেলে হাসান মোল্লা বলেছেন, ‘এমন মৃত্যু কখনো কল্পনাও করিনি। একসঙ্গে আমাদের পরিবারের চারজন মানুষ চলে যাবেন, এটা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে আজ আমাদের এই ক্ষতি হলো। আমরা দায়ীদের বিচার চাই।’
এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বালিয়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীরা নিহতদের বাড়িতে ভিড় করছেন। স্বজন হারানোর বেদনায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
মাদারীপুর সদর থানার ওসি মো. আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ‘ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় মাদারীপুরের একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ এলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








