কোনো ডাক্তারই বলে না আমার ছেলেটা সুস্থ হবে

ছবি: আগামীর সময়
যে বয়সে শিশুদের মাঠে দৌড়ানোর কথা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সেই হাসপাতালের বিছানায় আর রক্তের ব্যাগের সঙ্গে পরিচয় ৬ বছরের আব্দুল্লাহর। বিরল থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত এই শিশুকে বাঁচিয়ে রাখতে এখন প্রতি মাসে দুবার রক্ত দিতে হচ্ছে। অথচ কয়েক বছর আগেও মাসে এক ব্যাগ রক্তেই চলত তার জীবন।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওয়ামালা নগরহাট এলাকার বাসিন্দা মিলন হাওলাদার ও আয়েশা সিদ্দিকী দম্পতির ছোট ছেলে আব্দুল্লাহ। স্থানীয় আল ইক্বরা ক্যাডেট নূরানী মাদ্রাসার নার্সারি জামায়াতের শিক্ষার্থী সে। বয়স বাড়লেও স্বাভাবিক শিশুর মতো বেড়ে উঠছে না আব্দুল্লাহ। দিন দিন তার শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
আজ শনিবার বিকাল ৫টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কথা হয় আব্দুল্লাহর মা আয়েশা সিদ্দিকীর সঙ্গে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল্লাহর বয়স যখন মাত্র ৭ মাস, তখন তার শরীরে থ্যালাসেমিয়ার লক্ষণ ধরা পড়ে। এরপর থেকেই চলছে চিকিৎসা। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটেছেন তার বাবা-মা। কিন্তু এখনো কোনো চিকিৎসক নিশ্চিত করে বলতে পারেননি, তাদের সন্তান পুরোপুরি সুস্থ হবে কি না।
আয়েশা সিদ্দিকি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, ‘আমার ছেলেটাকে নিয়ে কত হাসপাতালে গেছি। ডাক্তার দেখাইছি। কিন্তু কোনো ডাক্তারই বলে না আমার ছেলেটা সুস্থ হবে। ওকে বাঁচিয়ে রাখতে নিয়মিত রক্ত দিতে হয়। এখন মাসে দুবার রক্ত লাগে। কীভাবে যে চালাইতেছি, আল্লাহই জানে।’
তিনি আরও বললেন, ‘আব্দুল্লাহর বাবা মিলন হাওলাদার নওয়ামালা বাজারে শাক-সবজির ব্যবসা করেন। সামান্য আয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যেই ছেলের চিকিৎসা, রক্ত সংগ্রহ ও ওষুধের খরচ বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতি মাসে ছেলের জন্য ১৮-২০ হাজার টাকা খরচ হয়। দোকানে যা আয় করি, তা দিয়ে সংসারই ঠিকমতো চলে না। আমার বড় ছেলে আলামিন ঢাকায় একটি জুতার কারখানায় কাজ করে। ছোট ভাইয়ের চিকিৎসায় সাধ্যমতো সহযোগিতা করে। ছেলেটাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি। সহযোগিতা পেলে হয়তো আরও ভালো চিকিৎসা করাতে পারতাম।’
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রউফ বললেন, ‘থ্যালাসেমিয়া একটি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে স্বাভাবিকভাবে রক্ত উৎপাদন হয় না। ফলে ধীরে ধীরে শরীরে রক্তের ঘাটতি দেখা দেয়। এজন্য নির্দিষ্ট সময় পরপর রোগীকে রক্ত দিতে হয়। নিয়মিত রক্ত দেওয়া ছাড়া এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার অন্য কোনো উপায় নেই।’






