মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় পিটিয়ে জখম, মামলা করে আতঙ্কে পুরো পরিবার

ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকায় দোকানের সামনে মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীকে রড ও শাবল দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আসামিদের হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে পুরো পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলা দায়েরের পর আসামিরা ও তাদের স্বজনরা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে এবং বাড়ির সামনে ঘোরাফেরা করছে। এমনকি পুলিশের উপস্থিতিতেও ‘মব’ সৃষ্টি করে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে দুপুরে শাক্তা ইউনিয়ন এলাকার খোলামোড়া শাহজালাল সড়কে ব্যবসায়ী পারভেজ হোসেন (৪৫) তার দোকানের সামনে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রিতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় মাদক কারবারি নয়ন মিয়া (৩৫) ও হৃদয় হোসেন (৩৮) রড ও সাবল দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় পারভেজের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
তার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় পারভেজকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ ভর্তি করেন। সেখানে তার মাথায় একাধিক সেলাই দিতে হয়।
ঘটনার পরদিন ১২ মে পারভেজের মা পারুল বেগম নয়ন মিয়াকে প্রধান আসামি করে তিনজনের নাম উল্লেখসহ এবং আরও ২–৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন।
পরিবারের অভিযোগ, মামলা করার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ১৫ মে জুমার নামাজের পর নয়নের চাচা দ্বীন ইসলাম (৫৫) ও শাওন হোসেনের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল তাদের বাড়িতে গিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এ সময় তারা হুমকি, গালাগাল ও ভয়ভীতি দেখায় বলে অভিযোগ করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের উপস্থিতিতেও অভিযুক্তরা অসদাচরণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী পারভেজের মা পারুল বেগম বললেন, মামলা করার পর থেকে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। পরিবারের শিশুদের বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রভাবশালীদের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। তিনি জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
আহত পারভেজের ছোট ভাই ও সাংবাদিক মো. আরিফ সম্রাট বললেন, মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় তাদের পরিবার এখন আতঙ্কে রয়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলছেন, অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। আদালতের বাইরে সমঝোতার চেষ্টা চলছিল বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস বললেন, আগের ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। নতুন করে মব সৃষ্টির ঘটনায় পাওয়া ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








