বরিশালে ছাত্রলীগ নেতার আইটি সেন্টারে লুটপাট

বরিশালে ছাত্রলীগের ১০ কর্মীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার পর এক ছাত্রলীগ নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে নগরীর ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ সংলগ্ন মধু মিয়ার পুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে সরকারবিরোধী গোপন বৈঠকের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম ইমরানের মালিকানাধীন বেস্ট লাক আইটি সেন্টার থেকে ১০ ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন বিএম কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
এর কয়েক ঘণ্টা পর রাতে ওই আইটি সেন্টারে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮টি কম্পিউটার, ১০টি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে যায়।
লুটপাটের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটকরা হলেন রেদোয়ান, টিপু, রিয়াজ ও আবু সাঈদ। তবে পরে তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার মূল হোতা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের বিএম কলেজ শাখার সাবেক সভাপতি হাসান রাজু ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
থানা সূত্রের দাবি, পরে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সজল তালুকদার থানায় গিয়ে আটক চারজনকে ছাড়িয়ে নেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সজল তালুকদার তাদের ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম ইমরানের মা মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের পর তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালানো হলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি দাবি করেন, লুটপাটের ঘটনায় মামলা করতে চাইলে পুলিশ মামলা না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেয়। তার ভাষ্য, লুট হওয়া মালামাল ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানান তিনি।







