আদালতে গুলি
কক্সবাজারে বিএনপি নেতার ওপর হামলা ৮ মাসে দুইবার

কক্সবাজারের বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য লিয়াকত আলী
কক্সবাজার সদরে নিজ বাড়িতে গত বছরের অক্টোবরে হামলার শিকার হয়েছিলেন ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য লিয়াকত আলী। তাকে লক্ষ্য করে চালানো হয় গুলি। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে করা হয় জখম।
প্রায় ৮ মাস পর ফের তার ওপর হয়েছে হামলা। এবারেরটি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের সামনে। এবার তিনি অক্ষত থাকলেও আহত হয়েছেন সঙ্গে থাকা মইন উদ্দিন ও রনি নামে দুই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা।
আজ বেলা ১১টার দিকে সহযোগীদের নিয়ে একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে আসেন লিয়াকত। হাজিরা শেষে বের হতেই আদালত প্রাঙ্গণে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। দুই পক্ষের মধ্যে ঘটে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা। এর মধ্যে আবারও গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। মোট ৭ রাউন্ড গুলি চলে সেখানে। আদালতপাড়ায় আতঙ্কে ছোটাছুটি করে লোকজন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশের ভাষ্য, এই হামলায় ছিলেন দুটি মোটরসাইকেলে আসা চার অস্ত্রধারী যুবক। এলোপাতাড়ি গুলিতে বিদ্ধ হন লিয়াকত আলীর চাচাতো ভাই মইন উদ্দিন (৩৫)। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রনিসহ অন্তত পাঁচজন এ ঘটনায় আহত হয়।
গুলিবিদ্ধ মইন উদ্দিন এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী জসিম উদ্দিন বলেছেন, ঘটনার সময় লিয়াকত আলীর সঙ্গে থাকা লোকজন হামলাকারীদের একজনকে ধরে পিটুনি দেয়। পরে তাকে আটক করে সদর মডেল থানা পুলিশ। তার নাম জিয়াউল হক জিয়া (২৭)।
থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, জিয়ার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৯ রাউন্ড তাজা গুলি, দুইটি ম্যাগাজিন এবং ঘটনাস্থল থেকে ৬টি গুলির খোসা জব্দ করা হয়েছে। আরও দুজন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার আবদুল খালেক নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে লিয়াকত আলীর বিরোধ দীর্ঘদিনের। এর কারণ আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক স্বার্থ।
গত বছরের ৫ অক্টোবরে সদরের ঝিলংজার লিংক রোড বিসিক শিল্প এলাকায় নিজ বাড়ির উঠানে হামলার শিকার হয়েছিলেন লিয়াকত। রাত ৮টার দিকে দুই মোটরসাইকেলে আসা চারজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে কুপিয়ে জখম করা হয় তাকে। চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছিলেন লিয়াকত।
তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ঝিলংজা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদরত উল্লাহর নেতৃত্বে হয় সেই হামলা। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তিনি প্রতিপক্ষের টার্গেটে পরিণত হন বলেও ছিল অভিযোগ।
অক্টোবরের ওই হামলার প্রতিবাদে তখন লিংক রোড এলাকায় সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশও করেছিলেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
তবে এবারের হামলার পর সামনে আসছে ‘প্রতিপক্ষ’ আবদুল খালেকের নাম। ওই এলাকার বাসিন্দা আব্বাসউদ্দীন বলছেন, ‘আবদুল খালেকের স্ত্রী অনেকদিন আগে গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনা ঘিরে দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়। এর জেরেই ধারাবাহিকভাবে সংঘাত ও হামলার ঘটনা ঘটছে।’
সর্বশেষ আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে গুলির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এমন হামলায় উদ্বেগ জানিয়েছেন কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব এইচ এম নজরুল ইসলাম।






