চট্টগ্রাম
ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই বিলম্বে ছেড়েছে ৫ ট্রেন

ছবি: আগামীর সময়
পবিত্র ঈদুল আজহার অগ্রিম টিকিটে যাত্রীদের আজ শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেনযোগে বাড়ি ফেরা শুরু হয়েছে। তবে ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে দেখা দিয়েছে শিডিউল বিপর্যয়।
চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ১৩টি আন্তঃনগর ট্রেনের মধ্যে পাঁচটিই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে স্টেশন ছেড়েছে। এর মধ্যে জামালপুরগামী ‘বিজয় এক্সপ্রেস’ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৩ ঘণ্টারও বেশি বিলম্বে ছাড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।
রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পাঁচটি ট্রেন শিডিউল মেলাতে পারেনি। জামালপুরের উদ্দেশে বিজয় এক্সপ্রেস ছাড়ার নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে। তবে শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে এটি ৩ ঘণ্টা ১০ মিনিট বিলম্বে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশন ছাড়ে।
পাহাড়িকা এক্সপ্রেস সিলেটের উদ্দেশে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও এটি ২০ মিনিট বিলম্বে সকাল ৮টা ১০ মিনিটে ছেড়ে যায়।
প্রবাল এক্সপ্রেস কক্সবাজারের উদ্দেশে বিকাল ৩টা ১০ মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল। এটি ২৫ মিনিট বিলম্বে বিকাল ৩টা ৩৫ মিনিটে স্টেশন ছাড়ে।
সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশে বিকাল ৫টায় ছাড়ার নির্ধারিত সময় থাকলেও ১৫ মিনিট বিলম্বে বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যায়।
মেঘনা এক্সপ্রেস চাঁদপুরের উদ্দেশে বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও এটি ৫ মিনিট বিলম্বে বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে ছাড়ে।
সবচেয়ে বড় শিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বিজয় এক্সপ্রেস। তীব্র গরমের মধ্যে ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করতে গিয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
ট্রেনের যাত্রী জামালপুরের সরিষাবাড়ীগামী বেসরকারি চাকরিজীবী মো. আরফান আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানালেন, ‘ঈদের আনন্দ নিয়ে পরিবারসহ সকাল সাড়ে ৮টাতেই স্টেশনে চলে এসেছিলাম। ৯টা ১৫ মিনিটের ট্রেন ছাড়ল দুপুর সাড়ে ১২টায়। এই তীব্র গরমে বাচ্চাটাসহ প্ল্যাটফর্মে বসে থাকতে থাকতে আমরা ক্লান্ত হয়ে গেছি। ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই যদি ৩ ঘণ্টা লেট হয়, তবে সামনের দিনগুলোতে কী অবস্থা হবে আল্লাহই জানেন।’
বিলম্বের কারণ জানতে রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তাকে কল দিলেও তারা রিসিভ করেননি।
তবে নাম প্রকাশ না করে এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘পাহাড়তলী কারখানা থেকে রেক (বগি) প্রস্তুত হয়ে স্টেশনে আসতে দেরি হওয়া এবং লিংকিং সমস্যার কারণে বিজয় এক্সপ্রেস ছাড়তে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে বাকি দিনগুলোতে ট্রেন শতভাগ সঠিক সময়ে ছেড়ে যেতে পারে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে না হয়।’






