রেলের বহরে বাড়ছে ইঞ্জিন ও বগি কমছে না ‘পথে বিকল’ হওয়ার শঙ্কা

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষ চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে। ছবি: আগামীর সময়
পবিত্র ঈদুল আজহার অগ্রিম টিকিটের যাত্রীদের নিয়ে আজ শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে রেলওয়ে। ঈদযাত্রার এই বিশাল চাপ সামাল দিতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে মেরামত শেষে নতুন ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) ও অতিরিক্ত কোচ (বগি) যুক্ত করা হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে যাত্রীদের মনে পিছু ছাড়ছে না পথে পথে ট্রেন বিকল হওয়ার আশঙ্কা। কারণ, গত চার মাসেই পূর্বাঞ্চল রেলে পথে পথে ১০১ বার ইঞ্জিন বিকলের ঘটনা ঘটেছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, পূর্বাঞ্চলে স্বাভাবিক সময়ে নিয়মিত ৭০-৭১টি লোকোমোটিভ চলাচল করলেও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আজ শনিবার বহরে ইঞ্জিনের সংখ্যা বাড়িয়ে ৭৯টি করা হয়েছে। আজ বিকালে আরও একটি ইঞ্জিন যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া আগামীকাল রোববার থেকে বহরে যুক্ত হবে আরও তিনটি লোকোমোটিভ। পাহাড়তলি ডিজেল কারখানা, পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা (কেলোকা) এবং ঢাকা কারখানা থেকে এসব ইঞ্জিন মেরামত শেষে ঈদযাত্রায় যুক্ত করা হচ্ছে।
ইঞ্জিনের পাশাপাশি এবার ঈদে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে নিয়মিত ট্রেনগুলোর সঙ্গে ১১০টি অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে।
আগামীকাল থেকে চলবে ৮টি ‘ঈদ স্পেশাল’ ট্রেন
ঈদের যাত্রীদের সুবিধার্থে আগামীকাল রোববার থেকে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে আটটি বিশেষ বা ‘ঈদ স্পেশাল’ ট্রেন চলাচল শুরু করবে। এসব ট্রেন ঢাকা, চট্টগ্রাম, ভৈরববাজার, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করবে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল বর্তমানে মোট ১৬৪টি ট্রেন পরিচালনা করে। এর মধ্যে ৫৮টি আন্তনগর; ৬০টি মেইল, এক্সপ্রেস ও কমিউটার; ৩৮টি লোকাল এবং ৮টি পণ্যবাহী ট্রেন।
বড় চিন্তা ‘পথে বিকল’ ও পুরনো ইঞ্জিন
রেলওয়ের এই বাড়তি প্রস্তুতির মধ্যেও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইঞ্জিন বিকল। গত চার মাসে রেললাইনে ১০১ বার ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেন মাঝপথে আটকে ছিল, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। ঈদযাত্রায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে পুরো শিডিউল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (পূর্ব) সাদেকুর রহমান আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘বর্তমানে ৫০-৬০ বছরের পুরনো লোকোমোটিভ ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে এগুলো পথে পথে বিকল হবে না, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আমরা কারিগরি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পার্টস সংযুক্ত করে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যাতে ঈদে মানুষের যাতায়াত স্বস্তিদায়ক হয়।’
ইঞ্জিন বিকলের স্থায়ী সমস্যা সমাধান প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, ইঞ্জিন বিকল হওয়ার হার শূন্যে নামাতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। নতুন লোকোমোটিভ আমদানি, পার্টস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জনবলকে আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া জরুরি।






