খাতুনগঞ্জে মসলার বাজার : মজুদ বেশি ক্রেতা কম

খাতুনগঞ্জে মসলার দোকান - রনি ফেরারি, চট্টগ্রাম
দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই উৎসব এলেই সুগন্ধী মসলার বাজারেও বাড়ে ব্যস্ততা। সাধারণত চাক্তাই খাতুনগঞ্জের পাইকারি মসলা বাজার থেকে শুরু করে অলিগলির দোকানেও মসলার মজুদ এবং বিকিকিনি অন্যান্য স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি।
তবে এবার কোরবানি ঈদে মসলার বাজারের চিরচেনা আমেজটা কিছুটা কম। খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোতে এলাচ, জিরা, দারুচিনি কিংবা লবঙ্গের পাহাড় জমেছে ঠিকই, কিন্তু আড়তদারদের চোখেমুখে রাজ্যের হতাশা। বাজারে পণ্যের মজুদ অনুযায়ী ক্রেতার সংখ্যা কম বলে ব্যবসায়ীদের অভিমত। সাধারণত ঈদের আগে মসলার বাজারে দামের পারদ ঊর্ধ্বমুখী হয়। কিন্তু এবার ঘটছে তার উল্টোটা। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে গত কয়েক সপ্তাহে মসলার দাম কমেছে।
বাজারের আড়তগুলো ঘুরে দেখা গেল, মে মাসের শুরুতে যে এলাচ পাইকারি বাজারে কেজি ৪ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, তা এখন মানভেদে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। অথচ গত বছর এই এলাচ কিনতে ব্যবসায়ীদের গুনতে হয়েছিল ৫ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা কমে লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ টাকায়। ভারতীয় জিরার দামও কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা কমে ৫১৫ থেকে ৫৩৫ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। ৪ হাজার ৮০০ টাকার আলুবোখারা কয়েক সপ্তাহ আগেও ছিল ৫ হাজার ২০০ টাকা।
খাতুনগঞ্জের ইলিয়াছ মার্কেটের আল্লাহর দান ষ্টোরের পরিচালক জুয়েল রানা এই পরিস্থিতির পেছনে দুটি প্রধান কারণ দেখছেন। তা হলো মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং সীমান্তপথের অবৈধ বাণিজ্য।
তার মতে, একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের পকেটের অবস্থা ভালো না। ফলে মসলার খুচরা চাহিদাই কমে গেছে। অন্যদিকে, কাস্টমসের চোখ ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে আসা মসলা পুরো বাজার গ্রাস করছে।
জুয়েল রানা ক্ষোভ প্রকাশ করেন, আমরা যারা নিয়ম মেনে, ডিউটি-ট্যাক্স দিয়ে বৈধভাবে জিরা আমদানি করছি, আমাদের খরচই পড়ছে কেজিতে ৫৩০ টাকা। অথচ বাজারে চোরাই পথে আসা একই জিরা ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
একই সুর শোনা গেল ব্যবসায়ী মো. জসিমের কণ্ঠেও। তিনি জানান, বাজারে অবৈধ পণ্যের ছড়াছড়ি থাকায় ভরা মৌসুমেও তারা লোকসান দিয়ে মাল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ও বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে জিরা, লবঙ্গ, এলাচ ও জায়ফলের মতো প্রধান মসলাগুলোর আনুষ্ঠানিক আমদানি গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। জুলাই থেকে ১০ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এলাচ এসেছে ১ হাজার ১৫০ টন এবং জিরা এসেছে ৩ হাজার ১১৫ টন।
নথিপত্রে আমদানি কমলেও খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুর রহমান মনে করেন, বাজারে সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। মাঝখানে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কিছু মসলার দাম বাড়লেও এখন তা বেশ কম। দাম কম থাকার পরও বাজারে বেচাকেনা নেই।
বাজারের এই স্থবিরতার মধ্যেই নতুন অস্বস্তি তৈরি করেছে মসলায় ভেজাল আতঙ্ক। ফলে পাইকারি বাজারে এর পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন মনে করেন, বছরজুড়েই নজরদারি দরকার। খাতুনগঞ্জের পাইকারি আড়ত এবং খুচরা বাজার পর্যন্ত যদি তদারকি ব্যবস্থা থাকে তবে চোরাই পথে পণ্য আসবে না।






